Thursday, 4 January 2018





ছোট আমাদের গাঁয়ে

ছোট আমাদের গাঁয়ে সুশীতল ছায়,
তরুর শাখায় বসি পাখি গীত গায়।
সবুজের সমারোহ গাঁয়ে চারিধারে,
আমাদের গ্রামখানি অজয়ের পারে।

অজয় নদীর ধারা বহে অবিরাম,
সবুজ ছায়ায় ঘেরা আমাদের গ্রাম।
রাঙাপথে দুইধারে সোনা ধানখেত,
জলাজমি পাশে হেরি হোগলা ও বেত।

ছোট আমাদের গাঁয়ে সোনাদিঘি আছে,
হাঁসগুলি জলে খেলে পাখি নাচে গাছে।
দিঘি পাড়ে তালগাছ আমের বাগান,
গাঁয়ের বধূরা এসে রোজ করে স্নান।

ছোট আমাদের গাঁয়ে ছোটনদী বয়,
রবি উঠে ফুল ফুটে সু-প্রভাত হয়।

অজয় নদীর তটে

অজয় নদীর তটে সরু বালি চর,
ওপারেতে ছোটগাঁয়ে ছোট ছোট ঘর।
নদীচরে দলে দলে বসেছে শালিক,
রবির কিরণে বালি করে চিকচিক।

নদীজলে মাঝিভাই নাওখানি বায়,
এপারের যাত্রীদল ওপারেতে যায়।
অজয়ের নদীঘাটে বসি বালুচরে,
বসে সাদা বক এক ছোট মাছ ধরে।

অজয়ের নদী বাঁকে শ্মশানের ঘাট,
নদীপাশে হেরি দূরে চাঁপা ডাঙা মাঠ।
নদীঘাটে বটগাছে শালিকের বাসা,
মাঠে মাঠে ধান কাটে এ গাঁয়ের চাষা।

পশ্চিম দিগন্তে রবি অস্তাচলে যায়,
সোনালী কিরণ হাসে নদী কিনারায়।

Friday, 12 May 2017




গাঁয়ের পথে লোক চলে

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

গাঁয়ের পথে লোক চলে,
মরাল ভাসে দিঘির জলে
দিঘির পাড়ে তাল গাছে,
বাবুই পাখির বাসা আছে

পাখিরা সব বাসায় থাকে,
বাড়ির উঠোনে কাক ডাকে
ছেলেরা সব পথের পরে,
উড়ায় ধূলো ইচ্ছে করে

অজয়নদীর ঘাটের কাছে,
মা কালীর মন্দির আছে
দূরে দেখি শ্মশান ঘাটে,
জ্বলে চিতা দিনে রাতে

যাত্রী বোঝাই নৌকা আসে,
পূবের গগনে অরুণ হাসে
যাত্রীরা নামে নৌকা হতে,
পায়ে হেঁটে চলে রাঙাপথে

গাঁয়ের বধূরা কলসী কাঁখে,
জল নিয়ে আসে নদী থেকে
গাঁয়ের পথে মোড়ের মাথায়,
ভালুক-ওয়ালা ভালুক নাচায়

গাঁয়ের বাউল পথের পরে,
একতারা বাজিয়ে গান করে
গলিপথে চলে ময়রা বুড়ি,
মাথায় লয়ে ধানের ঝুড়ি

আঙিনায় বসে টুনির মা,
সেলাই করে ফ্রকজামা
রাস্তার মাঝে নিধিরাম,

ঝাঁকা মাথায় বেচে আম

পড়ে আসে বেলা সূর্য ডোবে,
নামে আঁধার বাঁশের ঝোপে
সানাই-এর সুর বেজে উঠে,
চাঁদের আলো জোছনা ফুটে





গাঁয়ের মাটিতে সোনা ফলে

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী


গাঁয়ের মাটিতে সোনা ফলে চাষীভাই করে চাষ,
এই গাঁয়েতে সবার সাথে মিলেমিশে করি বাস
পূব গগনে সূর্য ওঠে ছড়িয়ে দেয় সোনার আলো,
এই মাটিতে শীতল ছায়া তারে আমি বাসি ভালো

গাঁয়ের মাটি শুদ্ধ খাঁটি, এই গাঁ আমার জন্মভূমি,
গাঁয়ের ছায়া গাঁয়ের মায়া পাবেনা কোথাও তুমি
গাঁয়ের মাটি জন্মভূমি, সে যে পূণ্যভূমি আমার,
উত্তরে বহে অজয়নদী, দক্ষিণেতে ধূম্র পাহাড়

গাঁয়ের মাটি স্বর্গ আমার সেথায় ফলে সোনার ধান,
প্রভাত হলে রোজ সকালে পাখির কণ্ঠে শুনি গান
গাঁয়ের শীতল তরুর ছায়ায়, ছোট ছোট মাটির ঘর,
গাঁয়ের রাঙামাটির পথে লাল ধূলো উড়ে নিরন্তর

গাঁয়ের মাটিতে সোনা ফলে দিঘিতে ফোটে কমল,

গাঁয়ের মাটিতে তরুর শাখাতে ধরে ফুল আর ফল






গাঁয়ের মাঝে মাটির কুটির

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

গাঁয়ের মাটি গাঁয়ের ছায়া গাঁয়ের মানুষ আপন,
গাঁয়ের মাঝে মাটির কুটির, আমার বাস ভবন

দিঘির জলে মরাল ভাসে, বধূরা করে সিনান,
দিঘির পাড়ে আমেরগাছে কোকিল গাহে গান

গাঁয়ের মাঠে চরায় গরু আমার গাঁয়ের রাখাল,
মধুর স্বরে বাজায় বাঁশি সাথে নিয়ে গরু পাল

গাঁয়ের মাঝি নৌকা চালায়, অজয় নদীর ঘাটে,
ভোর হতে সন্ধে অবধি সেথা তার দিন কাটে

গাঁয়ের পথে উড়িয়ে ধূলো গোরুর গাড়িটি চলে,
পান্থ-পথিক অলস দুপুরে বসে তরু ছায়া তলে

বিকেল হলে বনটিয়া এসে লুকায় মাঠের আলে,
শিকারী শকুনি বসে থাকে উঁচু গাছের মগডালে

পাহাড় ঘেঁষে সূর্য ডোবে অজয় নদীর ঐ পারে,
আমার গাঁয়ে আঁধার নামে নির্জন পথের ধারে


Sunday, 27 November 2016




আমার গাঁয়ে সবুজের অভিযান


এ গাঁয়ের মাটি আমার আপন 
আমার পূণ্য ও পবিত্র জন্মভূমি, 
এ মাটিতে ফলে সোনার ফসল 
সোনা ধানে ভরা খেতের জমি। 


গাঁয়ের পাশে বয়ে চলে নদী, 
গাঁয়ের মাঝিরা নৌকা চালায়। 
সকাল হলেই গাঁয়ের চাষীরা, 
কাস্তে হাতে নিয়ে মাঠে যায়। 



গাঁয়ের কামার, কামারশালায় 
জোরে জোরে হাতুড়ি চালায়, 
গাঁয়ের জেলেরা খালুই কাঁধে, 
মাছ ধরে আপন বাড়িতে যায়। 



গাঁয়ের তাঁতিরা, তাঁত বোনে, 
বোনে ধূতি কাপড় আর শাড়ি, 
গাঁয়ের কুমোর মাটি দিয়ে গড়ে 
মাটির কলসী ও মাটির হাঁড়ি। 



ক্লান্ত পথিক বসে এসে সব 
গাঁয়ের শেষে বটের ছায়ায়, 
সকাল সকাল নিয়ে গরুপাল 
গাঁয়ের রাখাল, বাঁশি বাজায়। 



খোলা আকাশে ভাসে শঙ্খচিল 
গাছে দোয়েল পাখি গায় গান, 
যেদিকে তাকাই দেখিবারে পাই 
আমার গাঁয়ে সবুজের অভিযান।



নির্জন পথে আঁধার নামে

নদীর কূলে পড়ে আসে বেলা চাষীরে ফেরে ঘরে,
দূরে দূরে গ্রামে জ্বলে উঠে দীপ, সন্ধ্যা হলে পরে।
নির্জন পথে আঁধার নামে, জোনাকিরা সব জ্বলে,
অজয় নদী স্রোতের টানে, আনমনে বয়ে চলে।

শ্মশানঘাটে জ্বলিছে চিতা, দূরে শেয়ালেরা ডাকে,
হাতে লণ্ঠণ, নিয়ে প্রহরীরা, সারারাত ধরে হাঁকে।
বাঁশগাছের বনে চাঁদ উঠে হেসে আঁধার ঘুচে যায়,
জোছনারাতে মিটিমিটি জ্বলে তারা আকাশের গায়।

গাঁয়ের পথে কুকুর কাঁদে, পেঁচা ডেকে ওঠে রাতে,
বাদুড়েরা ওড়ে ঘরের চালায়, দালানের উঁচু ছাতে।
কূয়ো তলায় বেড়াল কাঁদে, সারা গ্রামখানি ঘুমায়,
ভোরের আলো ফুটে ওঠে, শেষ রাতি কেটে যায়।

পাখি ডাকে বায়ু বয়, জেগে ওঠে  সারা ভুবন,
প্রভাত সূর্য ছড়ায় কিরণ, ভরে ওঠে নয়ন মন।